An Education Blog

word direction logo

কিডনি রোগ থেকে বাঁচতে করণীয়

বাংলাদেশে প্রতি ঘণ্টায় কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন পাঁচজন এবং বছরে ৪০ হাজার মারা যাচ্ছেন। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে আক্রান্ত দুই কোটি। কিডনি রোগের এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে মোট জনগোষ্ঠীর ২৮ থেকে ৩০ ভাগ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হবে। কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বাংলাদেশের ৫ শতাংশ মানুষও এর চিকিৎসাব্যয় মেটানোর ক্ষমতা রাখেন না। এ কারণে আগেভাগেই রোগটি প্রতিরোধ করা দরকার।

kidney_63205এই তথ্য কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস) আয়োজিত কিডনি রোগবিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠকের। এতে চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ব কিডনি দিবস সামনে রেখে আয়োজিত ওই বৈঠকে চিকিৎসকেরা জীবনযাত্রার ১০টি উপায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। যা মেনে চললে ভয়াবহ রোগটি প্রতিরোধ সম্ভব। চিকিৎসকেরা জানান, কিডনির রোগ হলে প্রশ্রাবের ধরন বদলে যাবে, ঘন ঘন প্রশ্রাব হবে, অবসাদগ্রস্ততায় ভুগতে পারেন, পা ফুলে যাবে, ত্বকে র‌্যাশ দেখা দিতে পারে, চুলকানি দেখা দেবে, খাদ্যের স্বাদের ভিন্নতা দেখা দেবে, নিঃশ্বাসে বাজে গন্ধ পাওয়া যেতে পারে, বমি বমি ভাব, ঠান্ডা লাগতে পারে।

বিশ্ব কিডনি দিবস আজ। এ বছর বিশ্ব কিডনি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শিশুদের কিডনি রোগ : শুরুতেই প্রতিরোধ’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো দেশেও দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশন, ক্যাম্পসসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। দিবসটি পালনের জন্য সেভ লাইফ ফাউন্ডেশন এবং গিফট লাইফ ফাউন্ডেশন নামে দু’টি সংস্থা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যালি বের করবে। র‌্যালি শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে জন্মগত ত্রুটি, বংশগত রোগ, নেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অপর্যাপ্ত পানি পান, ব্যাথানাশক ওষুধ সেবনসহ নানাবিধ কারণে বিশ্বে ধীর গতির কিডনি রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে কিডনি রোগের প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে কিডনি অন্যতম। মানুষের শরীরে দুইটি কিডনি থাকে যেগুলো শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষা করে এবং বিভিন্ন দূষিত পদার্থ ছেঁকে ফেলে। কিডনি রোগ একটি নীরব ঘাতক। বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিবছর অনেক মানুষ এই রোগে মৃত্যুবরণ করে। এই ধরনের রোগের চিকিৎসাও বেশ ব্যয়বহুল। তাই আগে থেকেই কিডনির যত্ন নেওয়া উচিত।

কিডনি ভালো রাখতে ন্যূনতম এই বিষয়গুলোর প্রতি যত্নবান হতে হবে।

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান : প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি বা তরল খাবার খাওয়া। তবে অতিরিক্ত ঘাম হলে পানি খাওয়ার পরিমাণ আরো বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে কিডনিতে পাথর হয়না এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক থাকে।

লবণ কম খাওয়া : খাবারে অতিরিক্ত লবন খাওয়া কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মানুষের শরীরে প্রতিদিন মাত্র ১ চা চামচ লবণের চাহিদা থাকে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত লবন খাওয়া মোটেই নয়।

অতিরিক্ত প্রাণীজ প্রোটিন খাওয়া : গরুর মাংস, শুকরের মাংস ইত্যাদি খেলে কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এমনকি চিপস, ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ইন্সট্যান্ট নুডুলস এবং লবণ দিয়ে ভাজা বাদামও কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। খাবার তালিকায় অতিরিক্ত প্রোটিন থাকলে কিডনির উপর চাপ পড়ে এবং কিডনির দূর্বল কোষ গুলোর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রাণীজ প্রোটিন এড়িয়ে মাছ বা ডাল জাতীয় প্রোটিন রাখতে হবে খাবার তালিকায়।

রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা : রক্তচাপ ১৪০/৯০ এর উপরে থাকলে কিডনির সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই কিডনি ভালো রাখতে রক্তচাপ সবসময় ১৩০/৮০ অথবা এর কম রাখতে হবে। রক্তচাপ কমিয়ে রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করা ও লবণ কম খাওয়া জরুরী।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রাখলে কিডনির রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত রক্তের সুগারের পরিমাণ পরীক্ষা করাতে হবে। সুগার বেশি থাকলে মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান : কম বেশি প্রায় সব ওষুধই কিডনির জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে ব্যথা নাশক ওষুধগুলো কিডনির জন্য একেবারেই ভালো নয়। নিয়ম না জেনে নিজে নিজে ওষুধ কিনে খেলে অজান্তেই কিডনির বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই যে কোনো ওষুধ খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ জরুরী।

বেশি ভিটামিন সি খাওয়া : মানুষের শরীরে প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন সি এর প্রয়োজন নেই। নিয়মিত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কোমল পানীয় : কোমল পানীয় বা বিভিন্ন রকমের এনার্জি ড্রিঙ্কস কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

ধূমপান ও মদ্যপান : ধূমপান ও মদ্যপানের কারণে ধীরে ধীরে কিডনিতে রক্ত চলাচল কমে যেতে থাকে এবং এর ফলে কিডনির কর্মক্ষমতাও হ্রাস পায়। ফলে ধূমপায়ী ও মদ্যপায়ী ব্যক্তি এক পর্যায়ে গিয়ে কিডনির রোগে আক্রান্ত হয়।

Source: http://goo.gl/SDQizb

The following two tabs change content below.
Dr.Anika Mahmud

Dr.Anika Mahmud

Dr.Anika Mahmud

Latest posts by Dr.Anika Mahmud (see all)

Leave a Reply

Share this

Journals

Email Subscribers

Name
Email *