An Education Blog

word direction logo

গর্ভকালীন সময়ের এই ২০লক্ষণ হতে পারে গর্ভপাতের কারণ !

সন্তান একজন নারীকে এনে দেয় তার সৃষ্টির পরিপূর্ণতার অনেকখানি। তবে কোন কিছু অর্জনের চাইতে সেটা যেমন রক্ষা করা কঠিন, ঠিক তেমনি সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর চাইতেও কঠিন তাকে সুস্থভাবে, সুন্দরভাবে বড় করে তোলা। সেটা কেবল পৃথিবীতে আসবার পরেই নয়, এর আগে গর্ভকালীন সময়েও। অনেক সময় খুব ছোটছোট কারণেই হয়ে যেতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভপাত, সন্তানের নানারকম সমস্যাসহ আরো অনেক ঝামেলাপূর্ণ ঘটনা। তবে অন্যান্য সময়ের মতন এ সময়েও কোন একটি দূর্ঘটনা ঘটতে চলার আগেই আমাদের শরীর ইঙ্গিত দেয় নানাভাবে, জানান দিতে চায় আসতে যাওয়া সমস্যাকে। কিন্তু অনভিজ্ঞতার ফলে সেসব ভুলে যায় বা এড়িয়ে যায় অনেকেই। ফলে দেখা দেয় গর্ভকালীন সমস্যা। চলুন এক নজরে দেখে আসি গর্ভকালীন সমস্যা ও এর শারীরিক চিহ্নগুলোকে।

maxresdefault১. রক্তপাত গর্ভকালীন সময়ে যে কোন ধরনের রক্তপাতই হতে পারে মায়ের স্বাস্থের জন্যে বিপদজনক। এক্ষেত্রে সবক্ষেত্রেই মাকে সাথে সাথে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসা উচিত। এসময় অতিরিক্ত ও ভারী রক্তপাত দ্বারা অনেকগুলো চিহ্ন প্রকাশ করে শরীর। জরায়ু ছাড়া অন্যকোন স্থানে ডিম্বানুর অবস্থান, ছোটখাটো আভ্যন্তরীন ঝামেলাসহ গর্ভপাত অব্দি হয়ে যেতে পারে এই সামান্য একটি কারণে।

২. অতিরিক্ত বমিভাব সামান্য একটু বমিভাব বা না খেতে চাওয়ার প্রবণতা এসময় মায়েদের ভেতরে থাকতেই পারে। তবে সেটারও একটা সীমা থাকে। আর তাই খেয়াল করুন ঠিক কতটা বেশি পানি বা খাবার-দাবার না খাওয়ার পরিমাণ প্রকাশ করছে আপনার শরীর। যদি পরিমাণ বেশি হয় তাহলে খুব দ্রুত চিকিৎসকের কাছে চলে যান। অন্যথায় পরিমাণমতন খাবার কিংবা পানির অভাবে দেখা দেবে নানারকম বড় ধরনের সমস্যা।

৩. বাচ্চার কম নড়াচড়া গর্ভকালীন সময়ে বাচ্চা কতটা নড়বে সেটার কোন নির্দিষ্ট পরিমাপ না থাকলেও একেবারেই কম গতিবিধি বা কার্যক্রম হতে পারে সমস্যার কারণ। এক্ষেত্রে বাচ্চা ঠিকঠাক আছে কিনা সেটা বুঝতে প্রথমে খানিকটা ঠান্ডা খাবার বা পানি পান করুন। তারপর শুয়ে পড়ুন বিছানায়। যদি সে পেটে লাথি মারে তাহলে বুঝতে হবে সবকিছু ঠিক আছে। চিকিৎসকদের মতে, দু ঘন্টায় কমপক্ষে ১০ বার লাথি মারলে বাচ্চাকে সুস্থ বলে মনে করা যায়। তবে এর কম-বেশিও হতে পারে ক্ষেত্রবিশেষে। তবে ১০ বারের কম হলে চিকিৎসকের কাছে একবার চলে যাওয়াটাই ভালো।

৪. অতিরিক্ত ঘাম গর্ভকালীন সময়ে ঘেমে যাওয়া খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। এটা নির্ভর করবে ঠিক কতখানি তরল আপনি পান করছেন আর লবন শরীরে নিচ্ছেন। তবে তারপরেও যদি হঠাৎ করে মাথা ব্যথাসহ অতিরিক্ত ঘেমে যায় আপনার শরীর, বিশেষ করে ২৮ তম সপ্তাহের দিকে হাত, পা ও পায়ের পাতা অতিরিক্ত ঘামে তাহলে চিকিৎসককে ডাকুন (ফিট প্রেগনেন্সি )। এটি প্রিকাম্পশিয়া, একটি অত্যন্ত বিপদজনক উচ্চরক্তচাপসহ অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়াও গর্ভকালীন সময়ে হওয়া- ক. দৃষ্টিশক্তিসংক্রান্ত সমস্যা খ. প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া ও অতিরিক্ত প্রস্রাব গ. ২৪ ঘন্টার বেশি শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রীর বেশি থাকা ( বেবিস ) ঘ. ডায়রিয়সহ পেটের যেকোন পীড়া ইত্যাদির ভেতরে কোন একটা সমস্যা দেখা গেলেও সাথে সাথে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। কারণ এর যেকোন একটা চিহ্ন আপনার গর্ভের সন্তানের জন্যে হতে পারে প্রচন্ড রকম বিপদজনক।

৫.তীব্র মাথাব্যথা ও তার সাথে চোখে ঝাপসা দেখা, হঠাৎ অধিক জ্বর, দীর্ঘায়িত প্রসব বেদনা, যে কোন ধরনের খিচুনি দেখা দিলে বুঝতে হবে মা ও গর্ভের শিশুর জন্য মারাত্মক বিপদজনক, সাথে সাথে গর্ভবতী মাকে হাসপাতাল কিংবা যে কোন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।

৬.গর্ভবতী মায়ের উচ্চ রক্তচাপ থাকলে একলামশিয়ার ঝুঁকি থাকে বেশি। গর্ভধারণের ২০ সপ্তাহ পরে যে সব নারীর উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয় তাদের ঝুঁকি থাকে অনেক। এতে করে প্রসুতি মায়ের পূর্ববর্তী লক্ষণগুলো সম্পর্কে জেনে রাখা প্রয়োজন এবং দ্রুত সেবা কেন্দ্রে নেয়া দরকার। পূর্ব লক্ষণ হিসাবে উচ্চ রক্তচাপ, মুখ, হাত ও পায়ে প্রচুর পানি আসা, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, তীব্র মাথা ব্যথা ও সাথে চোখে ঝাপসা দেখা, পেটের উপরের দিক ব্যথা অনুভব করা। গর্ভাবস্থায় ভাইরাস সংক্রমণ যে কোন সময়েই হতে পারে। এই ভাইরাস গর্ভের সন্তানের জন্যেও ক্ষতিকর হতে পারে।

৭.পেট শক্ত হয়ে আসা মাঝেমধ্যে পেশির সংকোচনের জন্য পেট শক্ত হয়ে আসে। সাধারণত ব্যথা থাকে না এবং একটু পর নিজেই চলে যায়। তবে ব্যথা যদি থাকে ও তীব্রতা বাড়তে থাকে সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কোষ্ঠকাঠিন্য বা প্রস্রাবে সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসা করুন।

৮.গর্ভবতীর যদি গর্ভাবস্থায় খুব জ্বর হয় এবং তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে উঠে যায় ৷

৯.গর্ভবতীর যদি ডায়াবেটিস থাকে এবং তা যদি পূর্বে শনাক্ত করা না হয়ে থাকে এবং অনিয়ন্ত্রিত থাকে ৷

১০. গর্ভবতীর যদি কিডনীর অসুখ (নেফ্রোটিক সিনড্রোম) থাকে ৷

১১. গর্ভবতী যদি গর্ভাবস্থায় হাম রোগে আক্রান্ত হয় ৷

১২.গর্ভবতী যদি গর্ভাবস্থায় কলেরা রোগে আক্রান্ত হয় ৷

১৩.থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে ৷

১৪.জরায়ুর টিউমার বা জরায়ুর গঠনগত কোনও ত্রুটি থাকলে ৷

১৫.জরায়ুতে গর্ভফুল বা প্ল্যাসেন্টা যদি খুব নিচে নেমে আসে তাহলেও বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে ৷

১৬.আগের গর্ভাবস্থা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভপাত করানো হয় ৷

১৭.মায়ের শরীরে প্রোজেস্টেরোন হরমোন কম থাকার কারণে গর্ভপাত হতে পারে ৷

১৮.গর্ভবতী যদি অত্যধিক মদ্যপান বা ধূমপানে আসক্ত হন তবে গর্ভপাত হতে পারে ৷

১৯.গর্ভবতী যদি প্রবল মানসিক পীড়ণে থাকেন বা চরম শোক দুঃখ পান তাহলে গর্ভপাত হতে পারে৷

২০.গর্ভাবস্থায় পেটে আঘাত পেলে, অত্যধিক পরিশ্রম, বাস বা ট্রেনে অনেক দূরে যাতায়াত করলে গর্ভপাত হতে পারে৷

মাতৃত্বের মাধ্যমে একজন নারীর জীবনে পরিপূর্ণতা আসে। একজন মা গর্ভবতী হবেন এটিই স্বাভাবিক নিয়ম। স্বাভাবিক এর চেয়ে গর্ভকালীন সময়ে মায়ের প্রতি অধিক যত্ন নেয়া প্রয়োজন তাহলে একজন নারী সুস্থ থেকে সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে পারবেন। চিকিৎসকের মতে “গর্ভবতী মায়েদের মনে ভয় কাজ করে যে বাচ্চা বেশি বড় হয়ে জন্ম নিলে জন্মের সময় জটিলতা দেখা দিতে পারে এই জন্য কম কম করে খাবার গ্রহণ করেন। এতে করে মা দিনে দিনে নিজে ও সন্তানের ক্ষতি করে ফেলেন। তবে অধিক ওজনধারী গর্ভবতী মহিলাদের শর্করা এবং চর্বি জাতীয় খাদ্য পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। প্রায় ৫০ শতাংশ গর্ভবতী মা-ই সকাল বেলায় বমি করার প্রবণতা থাকে। এতে করে সকালে মায়েদের ভাজা বা শুকনো খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে। ৩ বেলায় ভারি খাবার না খেয়ে একটু পর পর খাওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এই সময়ে গর্ভবতীকে একটু বেশি বিশ্রাম নিতে হবে। সব সময় হাসি আনন্দে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। নিয়মমত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সন্তান প্রসবের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রীর খোঁজ রাখতে হবে। নতুবা সেবাকেন্দ্রে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা রাখতে হবে।”

৫০ শতাংশ মেয়ে কোমর ব্যথায় আক্রান্ত হয়। ওজন বৃদ্ধি ও অস্থিসন্ধির শিথিলতা এর জন্য দায়ী। তবে উঁচু হিলের জুতা পরা, প্রস্রাবে সংক্রমণ বা কোষ্ঠকাঠিন্যও এর কারণ হতে পারে। পা উঁচু করে বিশ্রাম নিলে কিছুটা আরাম পাবেন। সঠিক ভঙ্গিতে শোয়া বা বসা, শক্ত বিছানা ব্যবহার করা, কোমরে মালিশ বা সেঁক এবং বেশি ব্যথা হলে পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে পারেন।

ঘন ঘন প্রস্রাব ৮ থেকে ১২ সপ্তাহে এই বিরক্তিকর সমস্যা দেখা দেয়। জরায়ুর আকার বড় হওয়ার কারণে মূত্রথলিতে চাপ দেয় বলে এমন ঘটে। ১২ সপ্তাহের পর সেরে গেলেও শেষ দিকে শিশুর মাথা নিচে নামতে শুরু করলে মূত্রথলিতে চাপ দিলে আবার দেখা দেয়। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা তলপেটে ব্যথা না থাকলে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

মা সুস্থ থাকবে তাহলে মাতৃত্বকালীন সময় হবে মায়ের আনন্দদায়ক। আর সেই মা-ই জন্ম দিবে সুস্থ সন্তানদের আর এই সন্তানরাই হবে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এটাই আমাদের কাম্য।

Source: http://bdromoni.com/archives/4614

The following two tabs change content below.
Dr.Anika Mahmud

Dr.Anika Mahmud

Dr.Anika Mahmud

Latest posts by Dr.Anika Mahmud (see all)

Leave a Reply

Share this

Journals

Email Subscribers

Name
Email *