An Education Blog

word direction logo

ঘুরে আসুন ইন্ডিয়ার (পশ্চিমবঙ্গের) লাভা, লোলেগাঁও, রিসপ ও রিকিসুম কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র থেকে

canopy+walkঅনেকের মতো আপনারও নিশ্চয়ই মেঘ ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছা আছে? সাত-আট হাজার ফুট উঁচুতে উঠে মেঘ স্পর্শ করতে পারলে মন্দ হয় না! কী বলেন? তাই তো বলছি, দার্জিলিং গিয়েছেন অথচ লাভা, লোলেগাঁও, রিসপ এবং রিকিসুম যাননি- এটা কোনো কথা হলো! দার্জিলিং গিয়ে এ জায়গাগুলোতে না গেলে আপনি ভীষণ মিস করবেন। ভেবে দেখুন, হাঁটতে হাঁটতে শুভ্র মেঘের কোমল পরশ পাওয়া- এ কি কম কথা!

পশ্চিমবঙ্গের গোর্খা অধ্যুষিত কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র লাভা,  লোলেগাঁও, রিসপ এবং রিকিসুম। পরিবার অথবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে দু-চার দিনের ছুটি কাটানোর জন্য এই জায়গাগুলো হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ। এ জন্য আপনাকে প্রথমে যেতে হবে কালিম্পঙ। সেখানকার বাস টার্মিনাল থেকে বাস ছেড়ে যায় সকাল আটটায়। ভাড়া জনপ্রতি একশ রুপি। বাসের সিট রিজার্ভেশনের জন্য ঘণ্টাখানেক আগেই কাউন্টারে গিয়ে যোগাযোগ করতে হবে। সদস্য সংখ্যা বেশি হলে আপনার সাধ্যের মধ্যেই পেয়ে যাবেন রিজার্ভ জিপ। ভাড়া তিন হাজার রুপির অধিক নয়। সেখানে গিয়ে যা দেখবেন :

লোলেগাঁও:

সুন্দর পথ, এঁকেবেঁকে প্রবেশ করেছে পাইনের ছায়াঘেরা, মেঘে ঢাকা পরিবেশের মাঝে। মেঘ ছুটে যায় দ্রুত গতিতে। ঘণ্টা চারেকের মধ্যে বাস গিয়ে উপস্থিত হবে লাভায়। মাত্র দশ মিনিট বিরতি। তারপর বাস আবার চলতে শুরু করবে লোলেগাঁও-এর উদ্দেশে। এরই মধ্যে পথের উচ্চতা সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ফুট ছাড়িয়ে যাবে। সাড়ে সাত হাজার ফুট, সেখানে মিলবে লোলেগাঁও। এটি আসলে একটি গ্রাম। গ্রাম থেকে চল্লিশ মিনিট হাটার পর জঙ্গলের মাঝে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ একটি ঝুলন্ত কাঠের সেতু রয়েছে। যা লোলেগাঁও এর প্রধান আকর্ষণ। এপার থেকে ওপার যাওয়ার জন্য জনপ্রতি টিকিট মূল্য ২৫ রুপি।

এর আগে আপনি মেঘের চাদর ভেঙে ভেঙে পদব্রজে এগিয়ে যাবেন প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার পথ। শত বছরের পুরনো বৃক্ষরাজির মাঝ দিয়ে আঁকাবাঁকা সেতু সামান্য বাতাসেই দুলে ওঠে। ভয় পাবেন না, ভেঙে পরার কোনো আশঙ্কা নেই। সেতু থেকে অবতরণের পর সকলে মিলে বনের নিরিবিলি পরিবেশে কাটিয়ে দিতে পারেন অনেকটা সময়। গ্রামের হিমশীতল দীর্ঘ প্রাঙ্গণের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশাল আকারের বুদ্ধ মূর্তি। মূহুর্মূহু মেঘের ভেলার দুরন্তপনায় মূর্তিটি পরিষ্কার করে দেখাও যায় না, ঢেকে যায় ক্ষণিকের মধ্যে। সেখানে মাত্র কয়েকটি খাবারের দোকানে পরিবেশিত হয় তিব্বতীদের প্রিয় খাবার মমো এবং থোপ্পা। গোর্খা অধ্যুষিত যেখানেই যান না কেনো উল্লেখিত খাবার হবে আপনার নাস্তার প্রধান মেন্যু, খেতেও দারুণ। পর্বতের চূড়া থেকে দূর দিগন্তকে সামনে নিয়ে চা-নাস্তা খাওয়া সে এক অভাবনীয় অনুভূতি। অধিকন্তু অনবরত মেঘ এসে ছুঁয়ে দিয়ে যাবে আপনাকে। হাতে গোনা কয়েকটি থাকার হোটেল রয়েছে সেখানে। হোটেলে থাকা খাওয়ার বন্দবস্ত আপনার সাধ্যের মধ্যেই হয়ে যাবে।

লাভা:

এবার ফিরে আসুন লাভায়। যার অবস্থান পর্বতের পীঠের উপর। চারিদিকে কেবল ফাঁকা উপত্যকা। চারপাশ মনের মতো ঘুরে দেখার জন্য এখানে এক দিনের অবস্থানই যথেষ্ট। চাইলে আরও দু-একদিন থাকা যেতে পারে। কারণ এমন জায়গায় জনালার পাশে অথবা বারান্দায় বসেও কাটিয়ে দেওয়া যায় সারাটা দিন। এখান থেকে দেড় ঘণ্টা দূরত্বে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন একটি ঝরনা। যা দেখার জন্য একটি জিপ রিজার্ভ করতে হবে। অথবা অন্য পর্যটকদের সাথে মিলে যাওয়া যেতে পারে।

রিসপ:

লাভা থেকে রিসপ যাওয়ার জন্য কোনো বাহনের প্রয়োজন পড়বে না। হেঁটেই যাওয়া যায়। পাথর বিছানো পথ দিয়ে হাঁটবেন, দু-পাশের বৃক্ষগুলি থেকে অনবরত পাখি ডেকে যাবে, আর মেঘ কিন্তু আপনার সাথেই থাকবে। হৃদয় জুড়ানো পরিবেশের মাঝ দিয়ে এক থেকে দেড় ঘণ্টা হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন রিসপ। রিসপে থাকবার বন্দবস্তটা একটু বেশিই সাজানো গোছানো। লজসহ রয়েছে একাধিক কাঠের তৈরি কটেজ। কটেজের বারান্দা যদি হয়  সম্মুখের পাহাড় খাঁদ পর্যন্ত ছড়ানো তাহলে তো কোনো কথাই নেই। দৃষ্টি দীর্ঘ করে তাকালে মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দেবে কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফ ঢাকা শ্বেত শরীর।

এখানকার সকাল সুন্দরই বলতে হয়। পর্বতের ও-পাশ থেকে সূর্য আস্তে করে উঠে আসে, শ্বেত পর্বতের শরীরে মৃদু করে ঢেলে দেয় তার সোনালি রং। নাস্তা খেয়ে বেরিয়ে পড়ুন আশপাশটা ভালো করে ঘুরে দেখার জন্য। পর্যটন নির্ভর ব্যবসাই স্থানীয়দের প্রধান পেশা। প্রায় প্রতিটি বাড়ির সাথে কমপক্ষে দুটি, একটি করে ঘর রয়েছে যা পর্যটকদের থাকার উপযোগী করে গড়ে তোলা। চাইলেই ছোট্ট গাড়ি বিজার্ভ করে ঘুরে বেড়ানো যায় গাঁয়ের আশপাশের দু-চার মাইল। আর পায়ে হেঁটে ঘুরতে পারলে ভ্রমণটা অধিক উপভোগ্য হতে পারে।

রিকিসুম:

রিসপ থেকে রিকিসুম পর্যন্ত অতি পুরনো পাইন গাছের বিস্তীর্ণ বনের মাঝ দিয়ে রয়েছে অসাধারণ একটি ট্রেইল। সমতল ট্রেইল ধরে রিকিসুম পর্যন্ত হেঁটে পৌঁছতে পারলে ধরে নিতে পারেন এ যাবত যা দেখলেন তার অর্ধেকটি এই ট্রেইলেই দেখে ফেলেছেন। বসতি থেকে এক ঘণ্টার পায়ে হাঁটা পথ। বৃটিশ আমলে নির্মিত পথ ধরে পাহাড়ের মাথায় গিয়ে রয়েছে সেই আমলেরই একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত দুর্গ। ভূমিকম্পে ভবনটি ধ্বংস হয়ে গেলেও তার মূল স্ট্রাকচার স্পষ্ট রয়েছে। বৃটিশ সাহেবরা মাঝে মধ্যে শিকার ও মনোরঞ্জনের উদ্দেশে এখানে সময় কাটাতেন। ভবনের ধার থেকেই হাজার মিটার নিচে বিস্তীর্ণ উপত্যকা, তার পরেই দেখা যায় ইন্ডিয়ার সর্বাধিক সংরক্ষিত এলাকা সিকিম।Shareiq

যেভাবে যেতে হবে:

রাজধানীর কল্যাণপুর থেকে প্রতিদিন এসআর, হানিফ, টিআর, শ্যামলী বাস ছেড়ে যায় লালমনিরহাট বুড়িমারী বর্ডারের উদ্দেশে। ভাড়া এসি ৮৫০, ননএসি ৬৫০। বর্ডারের আনুষ্ঠানিকতার জন্য আপনি ঢাকা থেকে যে বাসে বুড়িমাড়ী গিয়েছেন তাদের স্থানীয় কাউন্টারে যোগাযোগ করে তাদের সহযোগিতা নিতে পারেন। তারা সানন্দে কাজটি করে দেবে দেড়-দু’শো টাকার বিনিময়ে। এরপর ইন্ডিয়ায় প্রবেশ করবেন। তখন এপার থেকে বলে দেয়া লোকেরা আপনার সব কাজ করে দেবে। বিনিময়ে তারা কোনো টাকা নেবে না বটে, তবে তারা চাইবে আপনি যেন তাদের স্টল থেকে ডলার ভাঙিয়ে নেন। ঝামেলাবিহীন পরিবেশে ডলার ভাঙানোর কাজটি সেখানেই সারতে পারেন। রেট যে তাতে কম পাবেন সে সম্ভাবনা নেই।

বর্ডার পেরিয়েই শিলিগুড়ি পর্যন্ত রিজার্ভ জিপ পাওয়া যায়। শিলিগুড়ি জনসন টার্মিনাল থেকে জিপে করে যেতে হয় কালিম্পঙ। ভাড়া একশ বিশ রুপি। রিজার্ভ  জিপ ২৫০০ রুপিতে পাওয়া যাবে। লাভা, লোলেগাঁও, রিসপ এবং রিকিসুমে প্রতি রাত থাকার খরচ হবে জনপ্রতি ৩০০-৫০০ রুপি। এ ছাড়াও ভ্রমণের যাবতীয় তথ্য ও সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন

Leave a Reply