An Education Blog

word direction logo

ঘুরে আসুন কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, (বাংলাদেশ) থেকে

Coxbazarপৃথীবির দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। প্রতি বছর সারা দেশ থেকে লাখো পর্যটকের কক্সবাজারে সমাগত হয় কক্সবাজারে সমুদ্র দর্শনের জন্য। কক্সবাজারের সমুদ্র তীর প্রায় ১২০ কিমি দীর্ঘ। এছাড়াও এখানে রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ মংস্য বন্দর। আমাদের দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপের অবস্থানও কক্সবাজার জেলায়। এ ছাড়াও মহেশখালী ও সোনাদিয়া দ্বীপের অবস্থানও কক্সবাজার জেলায়। শুধু সমুদ্র আর দ্বীপ নয়, এ জেলায় আছে বেশ কয়েকটি সুন্দর সংরক্ষিত বন। এ সমস্ত কারণে কক্সাবাজারে সারা বছরই পর্যটকের ভীড় লেগে থাকে।

কখন যাবেন

কক্সবাজারের পীক সিজন বলে অক্টোবর থেকে মার্চ। এ সময়টায় বৃষ্টি কম হওয়ায় বেশী ট্যুরিস্ট আসে। এ ছাড়াও শীত থাকাতে বীচগুলো বেশী উপভোগ্য লাগে। অফপিক সীজন থাকলেও দুই ঈদের পরে এবং তিন দিনের বন্ধে অনেক ট্যুরিস্ট থাকে। এ সময়টায় বুকিং না দিয়ে যাওয়াটা ঠিক নয়। অফসিজনে হোটেলগুলো ৩০% থেকে ৬০% পর্যন্ত ছাড় দিয়ে থাকে। এ ছাড়াও বর্ষার সময়টা ঢেউ গুলো অনেক বড় থাকে।

 কিভাবে যাবেন

কক্সবাজারের সরাসরি গাড়ী চলে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে। যেমন, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রংপুর ইত্যাদী। ঢাকা থেকে নন এসি গাড়ী আছে অনেকগুলো। শ্যামলী, টিআর, হানিফ, ইউনিক, এস আলম, সৈাদিয়া, ইত্যাদী। ভাড়া পড়বে ৮০০ টাকা। আর যদি এসি তে যান আছে গ্রীন লাইন, ‍সৈাদিয়া, দেশ ট্রাভেলস, টিআর, সোহাগ ইত্যাদী। ভাড়া পড়বে ১৫০০-থেকে ২০০০ টাকা। সময় লাগতে পারে ১৪ ঘন্টার মত। এছাড়া সেন্টমার্টিন পরিবহন বলে একটি সার্ভিস চালু আছে যেটা চলে টেকনাফ পর্যন্ত।

 চট্টগ্রাম থেকে প্রতি ঘন্টায় কক্সবাজারের গাড়ী পাওয়া যায় বহদ্দার হাট থেকে। অধিকাংশ গাড়ীও অত্যন্ত লোকাল। ভালো সার্ভিস দেয় এস আলম ও সৈাদিয়া, ছাড়ে গরীবুল্লাহ শাহ মাজার, দামপাড়া থেকে।

 থাকার ব্যবস্থা:

বর্তমানে কক্সবাজারে হোটেলগুলো প্রায় ১৫০,০০০ জন ধারণ ক্ষমতা আছে। সুতারাং বুক না দিয়ে গেলেও হোটেল পাবার সম্ভাবনা থাকে। তবে ডিসেম্বরের শেষ দিকে এবং নিউ ইয়ারের প্রারম্ভে এ ঝুকিটা নেয়া ঠিক হবেনা। কক্স বাজার হোটেল/মোটেল/রিসোর্ট গুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় দামানুসারে।

৬০০০-১০.০০০: মারমেইড বিচ রিসোর্ট, সায়মন বিচ রিসোর্ট, ওশেন প্যারাডাইজ, লং বীচ, কক্স টুডে।

৩,০০০-৬,০০০: সী প্যালেস, সী গাল, কোরাল রীফ, নিটোল রিসোর্ট, আইল্যান্ডিয়া, বীচ ভিউ, সী ক্রাউন।

১,০০০ – ৩,০০০: উর্মি গেস্ট হাউজ, কোরাল রীফ, ইকরা বিচ রিসোর্ট, অভিসার, মিডিয়া ইন, কল্লোল, হানিমুন রিসোর্ট।

 খাওয়া

কক্সাজারে খাওয়ার মত অনেকগুলো রেস্টুরেন্ট আছে। বাজেট রেস্টুরেন্টের মধ্যে ঝাউবনের নামই সবার আগে আসে। এধরণের বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট আছে, খাবারের মান মোটামুটি একই। রোদেলা, ধানসিঁড়ি, নিরিবিলি। মেনু অনুসারে দামের তালিকা নিচে দেওয়া হল। সিজনে কম/বেশী হতে পারে। বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য নাম পৈাষী । হোটেল জোন থেকে কিছুটা দুরে শহরে এর অবস্থান। রিকশা/অটো ৫০ টাকা নিবে। দাম মোটামুটি একই। কিন্তু খাবার ভালো হবার কারণে ভিড়টা খুব বেশী থাকে। এছাড়া হান্ডি রেস্তারায় হায়দারাবদী বিরাণী খেতে পারবেন ২০০-২৫০ টাকায়। অবস্থান লাবণী পয়েন্টে। কেএফসিও আছে, যদি কারো খেতে ইচ্ছা করে।

 দর্শনীয় স্থানCox's_Bazar_boats

সৈকত

কক্সাবাজারের তিনটি সৈকত মোটামটি বিখ্যাত। লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী বীচ। কলাতলী বীচে ভিড় তুলনামূলক কম থাকে আর সবচেেয়ে বেশী ভিড় থাকে সুগন্ধায়। সময় নিয়ে তিনটা বীচে হেটে দেখতে পারেন। গোসল করলে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করবেন ভাটার সময় বা লাল পতাকা দেয়া অবস্থায় পানিতে নামবেননা। বীচে চেয়ার ভাড়া পাওয়া যায় ৫০-৬০ টাকা ঘন্টা। একই ভাড়ায় রাবার টিউবও পাবেন।

বার্মিজ মার্কেট

শহরের বার্মিজ মার্কেট পর্যটকদের একটি প্রিয় গন্তব্য। এখানে বার্মা এবং চায়না থেকে আসা অনেক কিছু পাওয়া যায়। যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের আচার, কাপড় চোপড়, গিফট আইটেম।

হিমছড়ি

কক্সবাজার হোটেল জোন থেকে হিমছড়ির দূরত্ব ১৮ কিমির মতে। সিএনজি ভাড়া নিতে পারে ৩০০ টাকা। এছাড়াও প্রবেশ ফি রয়েছে ৩০ টাকা। পাহাড়ের উপর থেকে চমৎকার সমুদ্রের ভিউ দেখা যায় বলে এ জায়গাটি অনেক জনপ্রিয়। মানুষ বেশী থাকলে জীপ ভাড়া করেও যেতে পারেন।

দরিয়ানগর পার্ক

পাহাড়, সমুদ্র আর সুর্যের মিলনের এ অপরূপ দৃশ্য বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের নিকটবর্তী দরিয়ানগর পর্যটন কেন্দ্রের। কক্সবাজার শহর থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে মাত্র আট কিলোমিটার পূর্বদিকে দরিয়ানগর পর্যটন কেন্দ্র। পশ্চিমে বিশাল বঙ্গোপসাগর, পূর্বে উঁচু পাহাড়। মাঝখানে কক্সবাজার-টেকনাফ পিচঢালা সড়ক। এই পথ ধরে এগিয়ে গেলেই সবুজে ঘেরা বড়ছেড়া গ্রাম। এই গ্রামের ৫৩ হেক্টর জমির ওপরে উঁচু-নিচু পাঁচটি পাহাড়ের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এই বিনোদন কেন্দ্রটি। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে খানিক দূরে হিমছড়ি বা ইনানী বিচে যাওয়ার আগেই সমুদ্র আর পাহাড়ের এই মিলনস্থল। পাহাড়ের চূড়া থেকে প্রায় সাতশ’ ফুট গভীরে একটি প্রাচীন গুহাও রয়েছে এখানে। পর্যটকরা অনায়াসে পাহাড়ের সেই ভিন্ন রূপটা উপভোগ করতে পারেন। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের ভ্রমণ ও আনন্দ খানিকটা বাড়িয়ে দিতে পারে এই দরিয়ানগর। প্রকৃতি তার দু’হাত ভরে সৌন্দর্য বিতরণ করেছে দরিয়ানগরকে।

টেকনাফ

টেকনাফের ভ্রমণের শুরু হয় নাফনদী থেকে। নদীর কূল ধরে বেড়ে উঠেছে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। শ্বাসমূলের সঙ্গে পানির বোঝাপড়াটাও দারুণ। এছাড়াও দেখার মত স্থান হতে পারে মাথিনের কুপ, টেকনাফ শহরের প্রান কেন্দ্রে নাফ নদীর পাশে টেকনাফ পুলিশ ফাঁড়ির চত্তরে এই মাথিনের কূপ।

এছাড়া রয়েছে টেকনাফের দমদমিয়ায় অবস্থিত নেচার পার্কে। গর্জন, তেলসুর, বহেড়া, চাপালিশ, হরীতকীসহ নানা গাছে ঘেরা ঘন সবুজ বন। এখানে ট্রেকিং পথে মিলবে নানা রকমের পাখি আর বন্য প্রাণীর, যা পুরোটাই প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে।

টেকনাফে থাকার জন্য মিল্কই হোটেল ভালো হবে প্রাইজ দামাদামি করে নিলে ২২০০ এর মধ্যে নিতে পারবেন ৪ জনের জন্য।Coral+in+Saint+Martin+Island

সেন্ট মার্টিন

সেন্টমারটিন/নারিকেল জিনজিরা দেখার উপযুক্ত সময় হচ্ছে শীতকাল। সিজনে পানির রঙ একদম ছবির মত নীল দেখায়। সেন্টমারটিন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ছোট্ট একটা দ্বীপ এখানে কেউরা গাছের নিচে বসে সমুদ্র দর্যেশন , নীল সমুদ্রে গোসল , সুন্দর সুন্দর রিসোর্টে রাত্রিযাপন ,ছেরাদবিপ ভ্রমণ ,ডাবের পানি সহ সামুদ্রিক মাছ সবই আপনার মনে গেঁথে নেবে। তবে এখানে অনেক আধুনিক সুযোগ সুবিধাই হয়ত আপনি পাবেন না। ২৪ ঘণ্টা ইলেক্ট্রেসিটি, এসি, লিফট বা থাই/চাইনিস রেস্ট্যুরেন্ট সেখানে নেই। ইলেক্ট্রিসিটির ব্যাবস্থা কিছু সময়ের জন্য করা হয়ে থাকে জেনারেটরের মাধ্মে। তবে হ্যা ভালো মোবাইল নেটওয়ার্ক পাবেন সব খানেই।

শীতকাল ছাড়াও কখন সেন্মারটিন ভ্রমণ উপযোগী তা শিপ ইনফরমেশন নিলেই বুজতে পারবেন। একমাত্র সমুদ্রের অবস্থা ভাল থাকলেই শিপ ছাড়ার অনুমতি মিলে।

সেন্টমারটিনে ট্রলার/ শিপ অথবা স্পীড বোডে যেতে পারেন। ট্রলারে/স্পিড বোডে জন প্রতি ভারা পরবে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। এবং এগুলো সারা বছর ধরে যাতায়াত করে। আর সিপে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভারা পরবে ৩৫০ থেকে শুরু করে ৪/৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ।কক্সবাজার সমুদ্র দেখে সেন্টমারটিন আসবার প্লান করছেন তারা কক্সবাজার থেকে টেকনাফ স্পেশাল বাসে চলে আসবেন ভারা ১২০ টাকা। ৩ ঘণ্টা লাগে যেতে। আর টেকনাফ থেকে কেয়ারি ঘাট ও খুব বেশী দূরে না মূলত টেকনাফ যাবার আগেই পথে কেয়ারী ঘাট। যারা রেল-বাস-সিপ এবং ট্রালার একসাথে ভ্রমণ করতে চাইছেন তারা রাতের ট্রেনে চিটাগং এরপর বাসে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ এসে সিপে সেন্তমারটিন এবং ট্রলারে ছেরাদ্বিপ পরিদর্শন করে আসতে পারেন।

Leave a Reply

Share this

Journals

Email Subscribers

Name
Email *