An Education Blog

word direction logo

ঘুরে আসুন থাইল্যাণ্ড থেকে

ব্যাংকক, থাইল্যাণ্ডbangkok-thailand2

অবসর সময়ে কোন স্থান ভ্রমণের কথা যদি বলতেই হয় তবে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে প্রথম দিকে মনে পড়বে থাইল্যাণ্ডের কথা। ছবির মত এই দেশটি যেন নানান রকম নিসর্গ আর সমুদ্র আদরে ঘেরা। ব্যাংকক আধুনিক শহর হলেও অনেক রাজা এই শহরে রাজকীয় ধাঁচের অজস্র প্রাসাদোপম অট্রালিকা গড়ে তুলেছেন। ব্যাংককের বর্তমান আধুনিক বিল্ডিংয়ের পাশাপাশি এই পুরনো ধাঁচের বাড়িগুলোও এক অনিন্দ্য সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আপনার চক্ষু তৃঞ্চা মেটানোর জন্য। ব্যাংককেই রয়েছে ছাও ফ্রায়া নদী। আর এই নদীর তীরেই বিশাল এলাকা জুড়ে রাজপ্রাসাদ-গ্রাণ্ড প্যালেস। রাজপ্রাসাদটিতে সবুজ ঘাসে ছাওয়া পথ বেয়ে যেতে হয়। সোনায় মোড়ানো প্রাসাদটি সত্যিই অপুর্ব। এককালে এখানে বসেই নিয়ন্ত্রণ করা হতো থাইল্যাণ্ডের সব কার্যক্রম। এখন যদিও সেটি সংরক্ষিত স্থাপনার আওতায় পড়ে গেছে। এই প্রাসাদের পেছন দিকে গেলে দেখতে পাবেন ভাট বা মন্দির। অনেকেই জানেন হয়তো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় যেমন মসজিদের ছড়াছড়ি তেমনি পুরো ব্যাংকক জুড়ে আবার মন্দির বা ভাটের দাপট। অসংখ্য মন্দিরের মধ্যে রয়্যাল চ্যাপল অত্যন্ত জনপ্রিয়। এখানে রয়েছে বহু মূল্যবান গৌতম বুদ্ধের মূর্তি। পাশেই রয়েছে বিশাল মনাষ্ট্রি। এই মনাষ্ট্রিতেই আবার রয়েছে পুরো পৃথিবীর সবথেকে বিশাল শায়িত বৌদ্ধ মূর্তি। মূর্তিটি সোনার পাতে মোড়া ৪৬ মিটার দীর্ঘ। মন্দির সৌধ ঘেরা ব্যাংকক দেখার জন্য রয়েছে আয়ুথায়ার পথে মার্বেল প্যালেস। এছাড়াও ওয়াট রাজানাড্ডা,ওয়াট বোয়ার্নিবাস,মহা উমা দেবী মন্দির,সাং চি চা, সান ফ্রা পার্ম এর মতো আকর্ষনীয় মন্দির। যদি কুমির দেখতে চান তবে আপনাকে চলে যেতে হবে ব্যাংকক থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে সামুত প্রাকার্ন-এ। এখানে রয়েছে একটি কুমির প্রকল্প। বিস্ময়ের দৃষ্টি নিয়ে এক সঙ্গে প্রায় ৩০ হাজার কুমির দেখতে পাবেন এই প্রকল্পে পা রাখলে। শহর থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে থাইবাসীদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্যান-রোজ গার্ডেন। পাশেই কোয়াই নদী। এ নদীর ব্রীজকে কেন্দ্র করেই লেখা হয়েছিলো বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্যা ব্রীজ অন দ্যা রিভার কোয়াই’।

কোথায় থাকবেন

সারা শহর জুড়ে আপনার রাত যাপনের জন্য রয়েছে ছোট বড় অসংখ্য হোটেল। বিমান বন্দর থেকেই হোটেলের নাম ঠিকানা,খরচাপাতির ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে পারবেন।

কীভাবে বেড়াবেন

সাধারণ সিটি বাস থেকে শুরু করে এসি বাস,ট্রেন,ট্রাম,ট্যাক্সি সবই পাবেন হাতের নাগালে। এছাড়া রয়েছে অটোরিকশাও। তাছাড়া মোটর বাইক ভাড়া করেও ঘুরতে পারেন ইচ্ছে হলে।

শপিং
আপনার শপিং সুবিধা দেয়ার জন্য এখানে রয়েছে অজস্র মল। তন্মোধ্যে এমবিকে, সিয়াম প্যারাগন,সেন্ট্রাল ওয়ার্ল্ড,প্যানথিম প্লাজা,আইটি মল ইত্যাদি।

খাওয়াদাওয়া
খাদ্য প্রেমীদের কাছে ব্যাংকক মানেই স্বর্গ। চাইনিজ এবং থাই খাবারের সামাহার সর্বত্র

ফুকেট (জেমস বন্ড দ্বীপ), থাইল্যাণ্ড

বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় অ্যাকশন-থ্রিলার জেমস বন্ড সিরিজের একটি ছবি দ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন গান। ১৯৭৪ সালে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব মানচিত্রে পরিচিত হয়ে উঠল একটি দ্বীপের নাম ‘ফুকেট’। আন্দামান সাগরের তীরে থাইল্যান্ডের এ দ্বীপেরই এক সৈকতে দ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন গান ছবিটির শুটিং হয়েছিল। তাই জায়গাটির নাম হয়ে যায় ‘জেমস বন্ড দ্বীপ’। আবার স্থানীয়রা ফুকেটকে বলেন ‘আন্দামানের মুক্তো’।
ইসমত আরা:

রাজধানী ব্যাঙ্ককের সাড়ে ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণে থাইল্যান্ডের সবচেয়ে বড় এ দ্বীপটিই একটি প্রদেশ। অবশ্য মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে এর একটি সেতু সংযোগও আছে। একসময় ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য প্রসিদ্ধ হলেও এখন এই প্রদেশের প্রধান আয় পর্যটন।

Thailand-2চমত্কার ও বিচিত্র সব সাগরসৈকত, পাহাড়ি জঙ্গল, বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রার মানুষ ফুকেটের বড় আকর্ষণ। চাইলেই জেলেদের পল্লীতে কাটিয়ে দিতে পারেন একটি দিন। লালচে বালুর সাগরসৈকতে যেমন করে নিতে পারেন সূর্যস্নান, তেমনি সাগর থেকে খাড়া উঠে আসা পাথুরে মাটির পাহাড়ে চড়ার চেষ্টায় কাটিয়ে দিতে পারেন সময়। কিংবা সাগরতলে ডুব দিয়ে রঙিন মাছের জগতে হারিয়ে যেতে পারেন। হাতির পিঠে চড়ে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্যে কাটাতে পারেন একটি দিন, পারেন পাহাড়ি জঙ্গলের ঝরনায় অবগাহন করে শরীর জুড়িয়ে নিতে। প্রকৃতির দেওয়া এসব অনুষঙ্গ তো আছেই, আরও যোগ হয়েছে মানুষের তৈরি সাগরতলার অ্যাকুরিয়াম, চিড়িয়াখানা কিংবা উদ্দাম রাতের বিনোদন। যারা ধর্ম-কর্মে বেশি মনোযোগী, তারা ঘুরে আসতে পারেন বৌদ্ধমন্দির।
ফুকেটের সবচেয়ে বড় সাগরসৈকত পাতং। একে ঘিরে গড়ে উঠেছে পাতং শহর। অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিদেশি পর্যটকে গমগম করে এই এলাকা। বিলাসবহুল হোটেল, ট্যুরিস্ট রিসোর্ট, নাইটক্লাব, ক্যাবারে, শপিং মলের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী বাজার-সব কিছুই আছে এখানে। সন্ধ্যা হলেই নাচ-গানে জমজমাট হয়ে ওঠে বাংলা রোডের নাইটক্লাব আর ক্যাবারে, কোনো কোনোটিতে আবার চলে ‘লেডিবয়’ বা হিজড়াদের নাচ। এমনি একটি সায়মন ক্যাবারে, যেখানে শুধু হিজড়াদের নাচই আয়োজন করা হয়। অবশ্য প্রথম দেখাতে বোঝার কোনো উপায়ই নেই যে এরা হিজড়া। পাতং সাগর সৈকতেও হিজড়াদের দেখা মেলে, বিদেশি মাতাল বয়স্ক পর্যটকদের পটানোই যাদের প্রধান কাজ।

জেমস বন্ড দ্বীপটি কিন্তু ঠিক ফুকেটে নয়, ফুকেট থেকে নৌপথে প্রায় দেড় ঘণ্টার দূরত্বে ফাং নাগা নামের ছোট্ট ভিন্ন একটা দ্বীপ। আর এই দ্বীপে যাওয়ার পথেই পড়বে জেলেদের গ্রাম, যেখানে পাবেন সমুদ্র থেকে ধরে আনা তাজা মাছের খাবার। গ্রামটি মুসলমানপ্রধান হলেও বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার সবরকম ব্যবস্থাই আছে। এ দিক দিয়ে বেশ উদার তারা। এখানে কিছুক্ষণ কাটিয়ে চলে যাবেন জেমস বন্ড দ্বীপে। এই দ্বীপে বড্ড ভিড়, কারণ সব বিদেশিই এখানে একবার ঢুঁ মারতে আসেন।এছাড়াও অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি আরও বেশ কয়েকটি সৈকত আছে। এদের মধ্যে বিখ্যাত কয়েকটি মাই খাও, নাই ইয়াং, নাই থন, বাং থাও, পানসিয়া, সুরিন, কামালা, নাখালে, নায়েম সিং, কালিম, কারন নোই, কাতা ইয়াই, কাতা নোই, রাওয়াই, ইয়া নোই।ফুকেটের আশপাশে ছোট দ্বীপগুলোর মধ্যে আছে কোরাল দ্বীপ, কোহ রাচা, কোহ নাকা, কো রাং, কোহ ইয়াও, কোহ সামুই। ফুকেট থেকে ছোট ছোট নৌযান ভাড়া করে সহজেই বেড়িয়ে আসা যায় এসব দ্বীপ।ফুকেটের অল্প একটু দূরে দিনে দিনে বেড়ানোর জন্য আছে খাও সোক বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। এর ভেতরে আছে স্বচ্ছ পানির চমত্কার পাহাড়ি নদী, নৌকা নিয়ে বেড়াতে পারেন সেখানেও।ঢাকা থেকে ব্যাঙ্কক যেতে বিমান ভাড়া পড়বে প্রায় ২০ হাজার টাকা। সেখান থেকে ফুকেটের বিমান ভাড়া যাওয়া-আসা ৭ হাজার টাকার মতো। ফুকেটে থাকা-খাওয়ার খরচ খুব বেশি নয়, অনেকটা বাংলাদেশের মতোই। দুই হাজার টাকায় ভদ্র মানের হোটেল রুম পাওয়া যায়, এক হাজার থেকে ১২শ টাকায় হয়ে যায় তিন বেলার খাবার। দল বেঁধে বেড়াতে গেলে এই খরচ অনেক কমে আসবে। বর্তমানে এক ডলারে পাওয়া যায় থাই মুদ্রা প্রায় ৩০ বাথ।

পাতাইয়া (কোরাল আইল্যান্ড), থাইল্যাণ্ড

সমুদ্র সৈকত,শপিং, রেস্তরাঁ আর মন্দিরের বিনোদনে সজ্জিত হয়ে আপনাকে আহবান করছে থাইল্যাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন শহর পাতাইয়া। ব্যাংককের দক্ষিণে প্রায় দেড়শো কিলোমিটার দূরে এশিয়ার অন্যতম এই সি বিচ রিসোর্ট-পাতাইয়া। এখানে সমস্ত সৈকত জুড়েই আনন্দ বিনোদনের এক উপাখ্যান ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আপনার জন্য। পাতাইয়া শহরটা যেন ছবির মত। নানান রকম বর্ণিল বাতির কল্যাণে সারা রাত জেগে থাকে এই শহর। অন্ধকার নামতেই প্রাণ ফিরে পায় শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অজস্র ক্লাব,বার,রেস্তরাঁ প্রভৃতি। অনেক রেস্তরাঁয় ঢুকে সেখানকার সত্যিকারের একুয়ারিয়ামে রাখা বিবিধ প্রকারের মাছের ক্রীড়া দর্শনে মুগ্ধ হতে পারবেন।

যেতে পারেন পাতাইয়ার বিচ রোডে। সেখান থেকে স্পিডবোটে সমুদ্রেস মাঝখানে ঘুরে বেড়াতে পারবেন ঝামেলা ছাড়াই। ডুবুরীর পোশাক পরে নেমে যেতে চাইলে নামতে পারবেন জলে। আর জলের তলে আপনার আবিস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে অবারিত সৌন্দর্য।এশিয়ার অন্যতম বিখ্যাত সৌন্দর্যের নগরী হওয়ার কারণে সারা বছরই অসংখ্য নারী পুরুষের ভীড়ে মুখরিত থাকে পাতাইয়া। আর এই সব দর্শনার্থীকে মুগ্ধ করতে স্থানীয়দেরও রয়েছে নানা আয়োজন আর সেবা। এক কথায় পুরো পাতাইয়া জুড়েই যেন রয়েছে ভালোলাগার অজস্র কাব্য লেখা। একবার গেলে পুনরায় আপনাকে টানবে।

কোথায় থাকবেনThailand-hotel_980x300

আপনার বিলাসিতার জন্য রয়েছে সমস্ত পাতাইয়া জুড়ে অসংখ্য হোটেল,রেস্তরাঁ। এদের মধ্যে ডিসকভারী রিসোর্ট,এলকে রয়্যাল স্যুট,বেওয়াস রেসিডেন্স অন্যতম।

সিটি ট্যুর

শহর ঘুরে দেখার জন্য রয়েছে আলকাজার শো,থাই সবমেরিন ট্যুর,এলিফ্যণ্ট ভিলেজ ট্যুর,শ্রীরাছা টাইগার জু ট্যুর,ষ্টোন পার্ক এণ্ড কোকোডাইল ফার্ম ট্যুর,মিউজিয়াম আর্ট সেন্টার ট্যুর প্রভৃতি।

শপিং করতে

আপনার শপিং সুবিধার জন্য এখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অজস্র শপিং মল। এদের মধ্যে যেকোনো একটাতে ঢুকে গেলেই হাতের নাগালে আপনার চাহিদাসমেত সব পেয়ে যাবেন। দি সুপার সেন্ট্রাল,সেন্ট্রাল ফেস্টিভ্যাল সেন্টার,ফ্রেণ্ডশিপ সুপার মার্কেট,রয়্যাল গার্ডেন প্লাজ প্রভৃতি মার্কেট আপনার শপিং চাহিদা পূরণের জন্য অপেক্ষা করছে।

খাওয়াদাওয়া
ইটালিয়ান পিৎজা, জার্মান, সুইস, ফ্রেঞ্চ সহ নানান পদের আমেরিকান খাবারও যখন তখন হাতের নাগালে পাবেন। এছাড়াও রয়েছে এ অঞ্চলের বিশেষ ডিশ।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে প্লেনে চড়ে সরাসরি ব্যাঙ্কক চলে যাবেন। বর্তমানে দেশেই এখন বিভিন্ন বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সি তাদের প্যাকেজ ট্যুরের আওতায় অতি অল্প খরচে আপনাকে থাইল্যাণ্ডে ঘুরে আসার সুযোগ দিচ্ছে।

Leave a Reply

Share this

Journals

Email Subscribers

Name
Email *