An Education Blog

word direction logo

ঘুরে আসুন রাঙামাটির (বাংলাদেশ) দ্বীপ গ্রাম “কাট্টলি”/বিলে থেকে

Bellকাট্টলি বিলের দূরত্ব রাঙামাটি সদর থেকে জলপথে প্রায় ৪ ঘণ্টার। বাহন লঞ্চ বা দেশীয় নৌকা। তবে সহজ যাত্রাপথ লংগদু হয়ে। লংগদু থেকে কাট্টলির দূরত্ব প্রায় দুই ঘণ্টার মতো। নিঃশব্দের জলাভূমি আর নীল আকাশের নিচে আছে কাট্টলি বিলের অনেকগুলো দ্বীপ। কাপ্তাই লেকের বিস্তৃত জলরাশির ঠিক মধ্যখানে এই দ্বীপগুলোতে গড়ে উঠেছে মানুষের বসতি। মৎস্য শিকার কেন্দ্র করে দ্বীপের বুকেই গড়ে উঠেছে বাজার। গড়ে উঠেছে শুঁটকি পল্লী। যা দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে এখানকার নিম্ন আয়ের মানুষগুলো।

চারপাশে হ্রদের নীল জলরাশি জুড়ে শীতের আগমন বার্তা জানিয়ে দেয় মিষ্টি কুয়াশা। লেকের এই অংশজুড়ে মাছধরার সারি সারি নৌকা। পানকৌড়ি আর নানা জাতের পাখির ঝাঁক বিলের চারপাশে। যারা আসেন তারা মূলত শীতের পাখি দেখতেই কাট্টলি বিলেই আসেন। মাছের প্রাচুর্যের কারণে কাট্টলি বিল পাখিদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছোট সরালি, টিকি হাঁস, বড় সরালি, মাথা মোটা টিটি, গাঙচিল, গাঙ কবুতর, চ্যাগা, চখাচখিসহ নানান প্রজাতির পাখির ঝাঁকে মুখরিত থাকে পুরো বিল।

চলতি পথে দেখা মিলবে ছোট ছোট দ্বীপ আর দূরে পাহাড়ের সারি। মাঝে মাঝে চোখে পড়বে দুই-একটা বাসিন্দা পরিবারের। বর্ষায় দ্বীপগুলো পানির নিচে থাকে- তাই যোগাযোগের জন্য প্রত্যেক পরিবারের একটা করে নৌকা থাকা বাধ্যতামূলক। জলে ভাসতে ভাসতে এগিয়ে যাবেন কাট্টলি বিলের দিকে। জলের বুকে আকস্মিকভাবে ভেসে উঠবে পরিযায়ী পাখির ঝাঁক। যা আরও আকর্ষণীয় ও নতুন অভিজ্ঞতার জন্ম দেয়। বর্তমানে বিলে শিকারীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় পরিযায়ী পাখির সংখ্যা বেড়েছে। জলে ভাসা আর পরিযায়ী পাখি দেখতে দেখতে দুপুর নাগাদ পৌঁছে যাবেন কাট্টলি বিলে। লেকের নীলাভ স্বচ্ছ ঠাণ্ডা জলে দীর্ঘ স্নান করে মিটিয়ে নিতে পারবেন মনের স্বাদ।

যেভাবে যাবেনঃ

কাট্টলি বিল যেতে হলে আপনাকে প্রথমে যেতে হবে রাঙামাটি অথবা লংগদু উপজেলা সদরে। ঢাকা থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস যায় রাঙামাটিতে। রাঙামাটি থেকে সকালে মারিশ্যা এবং লংগদুর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোতে করে কাট্টলি বিলে যাওয়া যায়।

তবে সবচেয়ে ভালো হয় আপনি যদি লংগদু হয়ে যান, এক্ষেত্রে রির্জাভ করে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় চড়তে পারবেন। ভাড়া পড়বে ১২০০-১৫০০ টাকা।

প্রয়োজনীয় তথ্যঃ

লেকে বেড়াতে গেলে সাঁতার জানা আবশ্যক। না জানলে পানিতে না নামাই উত্তম। কেননা হৃদ পানি বেশ গভীর। সঙ্গে রাখতে পারেন লাইফ জ্যাকেটও। কাট্টলি বিলে রাতে থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। দিনেদিনেই ঘুরে ফিরে আসতে হবে।

Leave a Reply

Share this

Journals

Email Subscribers

Name
Email *