An Education Blog

word direction logo

ঘুরে আসুন রাঙ্গামাটি থেকে

Hanging_bridge_in_Rangamatiবাংলাদেশ দেখতে হলে কর্মব্যস্ততা দূরে সরিয়ে রেখে মাঝেমধ্যে দু-চার দিনের জন্য বেড়িয়ে পরার বিকল্প নেই। গন্তব্যের তালিকায় প্রথমে রাঙ্গামাটি থাকলে আপনি ঠকবেন না নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। এ দেশের পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য প্রকৃতির এক অনন্য দান। রাঙ্গামাটির উল্লেখযোগ্য বেড়ানোর স্পটগুলো হলো-
কাপ্তাই লেক

সত্য কথা বলতে কি, বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের সম্পূর্ণটাই সৌন্দর্যে ভরপুর। সমস্ত এলাকা তন্ন তন্ন করে চষে বেড়ালেও আপনার মুগ্ধতা শেষ হবে না। উল্টো আপনার কৌতূহল বাড়তেই থাকবে। প্রকৃতি এত সুন্দর! তবে কাপ্তাই লেককে প্রাকৃতিক বললে ভুল হয়ে যাবে। বৃটিশ আমলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে কর্ণফুলী নদীর গতি মুখ ঘুরিয়ে দেয়া হয়। ফলে পাহাড়ের ফাঁক ফোঁকড়ের সমতল আবাদি জমিগুলো পানিতে পূর্ণ হয়ে বিশাল এক সরোবরে পরিণত হয়। এটি কাপ্তাই লেক বলে পরিচিত।

লেকের নীল জল যে কারও হৃদয় শীতল করে দেয়। সম্পূর্ণ লেকটিকে আবৃত করে রেখেছে পর্বত শ্রেণি। এই লেকের জলে নৌকায় ভেসে বেড়ানো যে কারোর জন্য স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকতে পারে। আপনিও ভেসে বেড়ান, উপভোগ করুন জল-পর্বতের ব্যাঞ্জনায় অপরূপ সৌন্দর্য। রাঙ্গামাটি শহর এবং কাপ্তাই পর্যটন স্পট সংযুক্ত হয়েছে চমৎকার একটি সড়কের মাধ্যমে। যেতে যেতে সড়কটি প্রবেশ করেছে পার্বত্য এলাকার গভীরে।
শুভলং ঝরনা

জেলার সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয় জায়গাগুলোর মধ্যে শুভলং ঝরনা একটি। প্রায় সকলেই রাঙ্গামাটি ভ্রমণে এলে সবার আগে শুভলং দেখতে যান। এই ঝরনা দেখতে সর্বক্ষণ পর্যটকের ভিড় লেগেই থাকে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসে ঝরনাটি পতিত হয়েছে কাপ্তাই লেকে। শুভলং-এর নিকটে যেতে বাধা নেই, ফলে ঝরনার রূপ মাধুর্য প্রাণ ভরে উপভোগ করতে বাধা নেই। সেখানে যাওয়ার একমাত্র উপায় নৌকা। শহরের রিজার্ভ বাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়। ইঞ্জিন চালিত নৌকায় শুভলং যাতায়াতের জন্য ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, স্পিডবোট ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা ভাড়া গুণতে হবে।

শুভলং বাজারShuvolong_Waterfall

গ্রামীণ বাজার মানেই আলাদা দর্শণীয় জায়গা। বাংলাদেশ যেহেতু গ্রামপ্রধান, তাই বর্ণিল বাজারগুলো এখানকার শোভা। শুভলং বাজারের অবস্থান পার্বত্য এলাকায়। সুতরাং, এখানকার সাজশয্যা অন্য বাজারের থেকে খানিক ভিন্ন। বাজারের পণ্য সামগ্রীও ভিন্ন। যেমন বিন্নিচাল, তিতগুলা, তিতবেগুন, বাঁশপ্রোল, গোমাইত্যা, শিমে আলু, তারা ডাটা প্রভৃতি। এগুলো স্থানীয়দের নিত্যদিনের খাবার। অথচ দেখুন এ সবের নামই আমরা শুনিনি। রাঙ্গামাটির রেস্তোরাঁয় পাওয়া যায় নানা ধরনের পাহাড়ি খাবার। পাওয়া যায় তাদের হাতে বোনা ঐতিহ্যবাহী পোশাক, গামছা, গায়ের চাদর, কম্বল ইত্যাদি। আপনার পছন্দেরটি চাইলে সেখান থেকেই কিনতে পারবেন। বাজারে যেতে হলে শুভলং ঝরনার পথেই যেতে হয়।

রাজবন বিহার

দেশের সর্ববৃহৎ এই জেলার বেশ কয়েকটি নিদর্শনের মধ্যে রাজবন বৌদ্ধ বিহার একটি। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের নিকট এটি পবিত্র স্থান। আধ্যাত্মিক মন্দির বলেও এর পরিচিতি বা নাম রয়েছে। মন্দিরের দৃষ্টিনন্দন গঠনের জন্য সাধারণ পর্যটকের নিকটও এটি আকর্ষণীয় জায়গা।

কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্ক

জাতীয় এই উদ্যানের অবস্থান কর্ণফুলী নদী ও কাপ্তাই মাউন্টেইন রেঞ্জের মাঝামাঝি। ৫,৪৬৪.৭৮ হেক্টর এলাকা নিয়ে ১৯৯৯ সালে এর প্রতিষ্ঠা। উদ্যান ঘোষণার আগে শিতা পাহাড় সংরক্ষিত বনাঞ্চল বলে পরিচিত ছিল। এই উদ্যানে রয়েছে বহু পুরনো বৃক্ষ, যেগুলি ১৮৭৩ সালে রোপণ করা হয়েছিল। যে কেউ এই বনের প্রেমে পড়ে যেতে পারেন। বন্য প্রাণীর মধ্যে রয়েছে হরিণ, বনবিড়াল, হাতি, বানর এবং অন্যান্য প্রাণী। বিলুপ্তপ্রায় বেশ কয়েক প্রকার পাখিও রয়েছে। আর অন্যান্য পাখি তো আছেই তাই পাখি প্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা বটে। বর্তমানে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান বন্যপশু ও পাখিদের জন্য এক অভয়ারণ্য। এখানে বন বিভাগ নির্মাণ করেছে পিকনিক স্পট ও রেস্তোরাঁ। পাহাড়ি বন্য পরিবেশে নিরিবিলি রেস্তোরাঁয় পরিবার পরিজনদের সাথে নিয়ে খাওয়াও এক দারুণ অভিজ্ঞতা।

ঝুলন্ত সেতু

দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতির পেছনে এখন পর্যন্ত কাপ্তাই লেকের পরেই যার স্থান তা হলো রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু। দৃষ্টিনন্দন সেতুটি কাপ্তাই লেকেরই বিশেষ এক অংশে স্থাপিত। সেতুকে কেন্দ্র করে এখানে রয়েছে একাধিক ক্যাটাগরির বোটিং সেবার আয়োজন। এখন বর্ষা চলমান, সুতরাং লেক এবং তার চারপাশের প্রকৃতিতে লেগেছে যৌবনের ছোঁয়া। পানিতে টইটুম্বুর লেকের উপর ঝুলন্ত সেতু আর তার এপার থেকে ওপারের দিকে আপনি পায়ে হেঁটে এগিয়ে হচ্ছেন, ভেবে দেখু কেমন হতে পারে সে অনুভূতি!

7প্যাদা টিং টিং

কাপ্তাই লেকের একটি অংশের মাঝখানে দ্বীপের মত জায়গাটিতে একটি রেস্তোরাঁ রয়েছে, নাম প্যাদা টিং টিং। সেখানে মোটামুটি স্বল্প খরচে পাহাড়ি খাবারের হরেক পদ থেকে বেছে নিতে পারবেন আপনার পছন্দের খাবার। মন্ডি, নুডুল মন্ডি, চিকেন চাটনি ইত্যাদি এখানকার জনপ্রিয় পদ। বিশেষ করে সেখানে গিয়ে কলাপাতা ও বাঁশের চোঙার মধ্যে রান্না করা মুরগির মাংস অথবা মাছ খেতে ভুলবেন না।

কীভাবে যাবেন

চাইলে নিজ ব্যবস্থাপনাতেই রাঙ্গামাটির ও তার আশপাশের এলাকা ভ্রমণ করা সম্ভব। ঢাকা থেকে সায়দাবাদ, মহাখালী ও ফকিরাপুল থেকে সারাদিনই বাস সার্ভিস রয়েছে। শ্যামলী, সোহাগ পরিবহণ, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সৌদিয়া এই রুটের অন্যতম বাস।

Leave a Reply

Share this

Journals

Email Subscribers

Name
Email *