An Education Blog

word direction logo

ঘুরে আসুন সিলেট থেকে

2033242488_1434450541প্রকৃতি অপার হস্তে সাজিয়েছে সিলেটকে। বৃহত্তর সিলেটের পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রূপ-লাবণ্যের অপূর্ব এক ভান্ডার। সিলেটের নান্দনিক সৌন্দর্য্যরে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক শোভা মুগ্ধ করে পলকেই।

কোথায় ঘুরবেন

রাতারগুল

সিলেটের সুন্দরবন’ খ্যাত বাংলাদেশের একমাত্র জলাবন (সোয়াম্প ফরেস্ট) হচ্ছে রাতারগুল। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের গুয়াইন নদীর দক্ষিণে রাতারগুলের অবস্থান। সিলেট শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরত্বে এর অবস্থান।

জলের মধ্যে ভেসে থাকা সবুজ বৃক্ষ, মাথার ওপর তার ছায়া, সুনীল আকাশ, নৌকায় করে রাতারগুলে ঘুরে বেড়ানো তো অদ্ভুত রোমাঞ্চকর এক অ্যাডভেঞ্চারই! এই বনে কিছু সাপ ছাড়াও আছে বানর, মাছরাঙা, পানকৌড়ি, কানাবক, সাদাবক, ঘুঘুসহ নানা জাতের অসংখ্য পাখি।

দলবেঁধে রাতারগুল যাওয়াই ভালো। সিলেট নগরীর চৌহাট্টা থেকে মাইক্রোবাসে করে যাওয়াই ভালো। ভাড়া যাওয়া-আসা বাবদ সর্বোচ্চ ২০০০ হাজার টাকা।

মাইক্রোবাস আপনাকে গোয়াইন নদীরে তীরে নামিয়ে দেবে। এখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে রাতারগুলের পাশে যেতে আপনার খরচ পড়বে সর্বোচ্চ ১০০০ হাজার টাকার মতো। পরে ডিঙ্গি নৌকায় করে রাতারগুল বনের ভেতর ঘুরতে আপনাকে সর্বোচ্চ ১২০০ টাকার মতো খরচ করতে হতে পারে। কথা বলে ঠিক করে নেওয়াই ভালো। অন্যদিকে নগরীর আম্বরখানা থেকে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে পৌনে এক ঘণ্টার মধ্যে গোয়াইন নদীর তীরে চলে যেতে পারেন।

জাফলং

জাফলংয়ের সৌন্দর্যের বর্ণনা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই! দেশ ছাড়িয়ে বিশে^ রয়েছে জাফলংয়ের ব্যাপক পরিচিতি। রূপ-লাবণ্যের এমন স্বপ্নপুরি আর কোথায় পাবেন! সিলেট থেকে বাস, মাইক্রোবাস বা সিএনজি অটোরিকশায় করে জাফলং যেতে সময় লাগে সর্বোচ্চ দেড় ঘণ্টা। বাসে জনপ্রতি ভাড়া ৫৫ টাকা, সিএনজি অটোরিকশা রিজার্ভ ৬০০-৭০০ টাকা, মাইক্রোবাস রিজার্ভ ১৫০০-১৮০০ টাকা।

বিছনাকান্দি

সুউচ্চ পাহাড়। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা বিশাল ঝর্ণা। নিচে সারি সারি পাথরের ওপর ছিটকে পড়ছে ঝর্ণার স্বচ্ছ জল। পাহাড়, মেঘ, আকাশ আর স্বচ্ছ জলের জলকেলি মিলিয়ে বিছনাকান্দি মুগ্ধতার এক অনন্য রূপ।

সিলেট নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সিএনজি অটোরিকশায় গোয়াইনঘাটের হাদারপাড় যেতে হবে। এজন্য জনপ্রতি ৮০ টাকা দিয়ে যাওয়া যায়। আবার রিজার্ভ অটোরিকশায় ৪০০-৪৫০ টাকার মধ্যেই যাওয়া যায়। হাদারপাড় বাজারে নেমে মসজিদের পাশে খেয়াঘাট থেকে নৌকা রিজার্ভ করে যেতে হবে। ভাড়া প্রথমে মাঝিরা একটু বেশিই হাঁকাবে। কিন্তু রাজি না হয়ে একটু দরকষাকষি করুন। দেখবেন, সর্বোচ্চ ৮০০ টাকার মধ্যেই যাওয়া-আসায় রাজি হয়ে যাবে।

9595143167_808b911bb3_bলোভাছড়া চা বাগান

পাহাড়ের মেঘের প্রতিচ্ছবি, যেন হাত দিয়েই ছোঁয়া যাবে মেঘ! চা বাগানে সবুজকুঁড়ি, কচি ছেলে-মেয়ের নিষ্পাপ চাহনি, চা শ্রমিকদের জীবনাচরণ, ব্রিটিশ আমলের ক্বিন ব্রিজ, নদীর বুকে পাল তোলা নৌকার ভেসে চলা, নদী তীরের জীবন.. কতো কি! সিলেট বেড়াতে এলে লোভাচড়ায় না যাওয়া মানে চরম বোকামি! লোভাছড়া যেতে সিলেট শহর থেকে বাসে ৪০ টাকা ভাড়া দিয়ে যেতে হবে কানাইঘাট উপজেলার সদর নৌকা ঘাটে। সেখান থেকে জনপ্রতি ২৫ টাকা ভাড়া দিয়ে নৌকা করে যেতে হবে লোভা চা বাগানে। চা বাগান দেখে নৌকা করে আবার যেতে পারেন লোভাছড়া পাথর কোয়ারিতে। পাথর শ্রমিকদের জীবন, ভারতের সীমান্ত এলাকা, বালুচর, পাহাড়-মেঘের মিতালি দেখতে পারবেন সেখানে। নৌকায় ভাড়া ১৫-২০ টাকা নেবে জনপ্রতি।

পাংথুমাই

পেছনে ভারতের মেঘালয় রাজ্য আর বয়ে চলা পিয়াইন নদীর মিতালিতে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের পাংথুমাই গ্রাম দেশের সবচেয়ে সুন্দরতম গ্রামগুলোর একটি। গ্রামের পাশেই বড়হিল নামক মায়াবী এক ঝর্ণার কলকল ধ্বনিতেই বিমুগ্ধ হওয়া যায়।

সিলেট শহরের আম্বরখানা থেকে সিএনজি অটোরিকশায় ৪০০-৪৫০ টাকায় গোয়াইনঘাট বাজারে গিয়ে পরে পশ্চিম জাফলং হয়ে পাংথুমাই যেতে হবে।

মালনিছড়া লাক্কাতুড়া চা বাগান

সিলেট শহরের উপকণ্ঠেই রয়েছে মালনিছড়া ও লাক্কাতুড়া চা বাগান। মাত্র ১৫-২০ মিনিটেই শহর থেকে এ চা বাগান দুটিতে যাওয়া যায়। সিএনজি অটোরিকশাতেই যাওয়া ভালো।

লাক্কাতুড়া চা বাগানেই রয়েছে দেশের প্রথম গ্রিন গ্যালারির ক্রিকেট স্টেডিয়াম। নগরীর জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা যেকোনো স্থান থেকেই যাওয়া যায় চা বাগান দুটিতে।

সিলেট জেলার মধ্যে থাকা এসব আকর্ষণীয় মনোমুগ্ধকর স্থান ছাড়াও যেতে পারেন হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, শ্রীপুর, মাধবপুর লেক, মাধবকুণ্ডু জলপ্রপাত, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, জাদুকাটা নদী প্রভৃতি স্থানেও।
কীভাবে যাবেন সিলেট

ঢাকার কমলাপুর ও ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশন ট্রেনে করে সিলেট আসা যায়। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির বাস নিয়মিতই আসে ঢাকা থেকে।

যেখানে থাকবেন56d1596a55f62f4b9bd1b44985670903

সিলেটে থাকার জন্য রয়েছে বেশ ভালো সুবিধা। রয়েছে উন্নতমানের রোজভিউ হোটেল, হোটেল ফরচুন গার্ডেন, হোটেল সুপ্রিম, হোটেল ডালাস, হোটেল অনুরাগ, হোটেল মেট্রো ইন্টারন্যাশনাল প্রভৃতি।

এছাড়া কিছুটা কম ভাড়ার হোটেল গুলশান, হোটেল কায়কোবাদ, হোটেল হিট টাউন, হোটেল দরগাহ গেট রয়েছে।
আপনি যদি প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকতে চান, সবুজে চোখ জুড়াতে চান, তবে থাকতে পারেন নাজিমগড় রিসোর্ট কিংবা শুকতারা রিসোর্টে। সিলেট আসার আগে পরিচিত কারো সঙ্গে যোগাযোগ করে এলে তো আরো ভালো হয়।

Leave a Reply

Share this

Journals

Email Subscribers

Name
Email *