An Education Blog

word direction logo

দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি, দুধের ঘনত্ব ও ফ্যাটের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং শরীরের মাসল টিস্যু গঠনে অ্যামিনো এসিডের ভূমিকা ও ব্যবহার

13124569_247418318952311_4880124350178885007_nঅামরা সকলেই গাভীর দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি, দুধের ফ্যাট বৃদ্ধি কিংবা গরু মোটাতাজাকরণে গরুর পেশী মজবুত করার জন্য চিন্তিত এবং সচেতন। কিন্তু এর জন্য গরুকে কি খেতে দিচ্ছি তা কি কখনও চিন্তা করেছি? অনেকেই অামাকে ম্যাসেজ বা ফোনে প্রশ্ন করে ভাই গরুকে এত খাওয়াচ্ছি কিন্তু গরুর দুধ বৃদ্ধি পাচ্ছে না, দুধ খুবই পাতলা গ্রাহক কিনতে চাচ্ছেনা কিংবা গরু মোটা হচ্ছে না ইত্যাদি। তাকে যখন জিজ্ঞাসা করছি কি খাওয়াচ্ছেন অাপনার গরুকে? উত্তর যা পাওয়া যায় তার সারসংক্ষেপে বলতে গেলে- শক্তি অনেক কম, ক্রোড প্রোটিন % কম, TDN কম, মেটাবলাইজ প্রোটিন ও অ্যামিনো এসিড মাত্রা খুবই নগন্য, মিনারেল প্রয়োজনের তুলনাই কেউ অনেক বেশি দিচ্ছে অাবার কেউ এ বিষয়ে কোন মাথা ব্যাথাই নেই, কেউ অনেক খরচ করছেন কিন্তু পুষ্টি পূরণ হচ্ছে না, কেউ বলছেন এত হিসাবের দরকার নাই খাওয়ালেই দুধ দিবে ইত্যাদি। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল অনেকের গরু হিটে অাসছে না, গর্ভ ধারণ করছে না কিংবা প্রসব পরবর্তি নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এসবের মূল কারণ হল সঠিক মানের পুষ্টকর খাবারের অভাব। দেশি গরু তে এতসব সমস্যা কম দেখা যায় কারণ এরা দুধ কম দেয় কিন্তু সংকর বা বিদেশী জাতের গরু গুলো দুধ বেশি দেওয়ার কারণে শরীরে প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি দেখা দেয়। তাই তাদের কে উপযুক্ত পুষ্টমানের খাবার দেওয়া জরুরী। কিন্তু অনেকেই তা মেনে চলতে পারে না। যেমন কয়েক জনের (নাম উল্লেখ নাইবা করলাম) রেশন বিষশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়- ঘনত্ব প্রতি কেজিতে ৯ মেগাজুল, প্রোটিন ১১% এর চেয়ে কম। NEg মান এতই কম যে গরুর বৃদ্ধি প্রায় অসম্ভব। তাদের রেশন ৫০-৫৫% এর বেশি কুড়া দিয়ে সাজিয়েছেন। প্রয়োজনের সাথে মিনারেলের যোগান নগন্য। কিন্তু এই মানের রেশন দিয়ে ভাল ফলাফল অাশা করা কঠিন।

অাবার অামরা অনেকে ভাল শক্তিমান ও ক্রোড প্রোটিন সমৃদ্ধ রেশন তৈরি করলেও RDP, RUP, MP ও অ্যামিনো এসিড নিয়ে কখনই চিন্তা করিনা যা দুধ উৎপাদন, দুধে প্রোটিন ও ফ্যাট বৃদ্ধি অর্থাৎ ঘনত্ব বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হয়তো অনেকেই এই সম্পর্কে ধারনাই রাখে না বা গুরুত্বই দিচ্ছেন না। কিন্তু বিষয়গুলো না মানলে ভাল পারফরমেন্স পাওয়া খুবই কঠিন।

অামরা জানি স্তন্যপায়ী প্রাণির জন্য প্রায় ২০০ প্রকার অ্যামিনো এসিড প্রয়োজন এর মধ্যে ২০ প্রকার হল অত্যাবশকীয় এবং কোন প্রাণিই তা তার শরীরে উৎপাদন করতে পারে না। এই ২০ প্রকারের যেকোন একপ্রকার অনুপস্থিত থাকলেই বাকি ১৯ প্রকার প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যাবে। তাই সকল প্রকার অ্যামিনো এসিডই খুব গুরুত্বপূর্ণ। এত সকল অ্যামিনো এসিডের মধ্যে ২ টি সরাসরি দুধ উৎপাদন, দুধের ফ্যাট ও প্রোটিনের সাথে সম্পর্ক রয়েছে। তা হল – লাইসিন ও মেথিওনিন। এই দুটি অ্যামিনো এসিড রেশনে সঠিক পরিমাণে না থাকলে দুধ উৎপাদনসহ ঘনত্ব কমে যাবে নিশ্চিত। তাই এই দুটি রেশনে সঠিক পরিমাণ ও অনুপাতে নিশ্চিত করতে হবে। এই দুটি অ্যামিনো এসিড রেশনের মোট মেটাবলাইজ প্রোটিনের যথাক্রমে ৭.৩% এবং ২.৫% হতে হবে। এর কম হলেই দুধ উৎপাদনের ব্যত্যয় ঘটবে। অনুপাতটি হল ৩:১। লাইসিন ও মেথিওনিন পেশী কোষ গঠনে ভুমিকা পালন করে তাই ভাল স্বাস্থ্য গঠনে অ্যামিনো এসিডের ব্যালান্স খুবই প্রয়োজনীয় বিষয়।

এ ছাড়া Branched chain Amino Acid যেমন L- leucine, L- isoleucine, L-valine; এই তিনটি অ্যামিনো এসিডও দুধ উৎপাদন ও ফ্যাট বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রয়েছে।

তাছাড়া অারগিনাইন সরাসরি প্রজননের সাথে জড়িত। এটি সঠিক পরিমাণে না থাকলে গরু হিটে নাও অাসতে পারে এবং গর্ভ ধারনের পর বাচ্চার সঠিক গ্রুথে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কিভাব পূরণ করবেন অ্যামিনো এসিড চাহিদাঃ এর জন্য প্রথমেই জানতে হবে অ্যামিনো এসিড কিভাবে উৎপন্ন হয়। অামরা সাধারনত ক্রোড প্রোটিন হিসাব করে রেশন তৈরি করি। কিন্তু এ ক্রোড প্রোটিন তিন ভাগে ভাগ করা হয়- প্রোটিন এ, বি, সি। অন্যভাবে বললে রুমেন ডিগ্রেডেড প্রোটিন (RDP), রুমেন অানডিগ্রেডেড প্রোটিন (RUP)। RDP হল এমন ধরনের প্রোটিন যা রুমেনে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ভেঙ্গে হজম হয়। এটি শুধু শরীরের শক্তি যোগানো ছাড়া অন্যকোন কাজে অাসে না। RUP হল রুমেনে থেকে বাইপাস হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে চলে যায়। এখানে হজম হওয়া প্রোটিনকেই ট্রু প্রোটিন বা মেটাবলাইজ প্রোটিন বলে। এই মেটাবলাইজ প্রোটিন ভেঙ্গে বিভিন্ন প্রকারের অ্যামিনো এসিড উৎপাদন হয়। তাই অাপনার রেশনের কতটুকু RUP বিদ্ধমান এবং RUP তে কোন কোন অ্যামিনো এসিড কতটুকু উৎপন্ন হচ্ছে তা জানা জরুরী। অাপনার তৈরিকৃত রেশন দিয়ে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো পূরণ না হলে সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করে চাহিদা পূরণ করতে হবে। কারণ অামাদের দেশে সহজলভ্য উপাদান গুলোর মধ্যে সয়াবিন মিল, ফিসমিল, ভাল মানের বিভিন্ন খৈলে লাইসিন ও মেথিওনিন বেশি পাওয়া গেলেও অন্যান্য সকল খাবারেই কম বেশি পাওয়া যায় কিন্তু তা চাহিদা পূরণ হওয়ার মত অ্যামিনো এসিড নেই। অন্যদিকে ব্লাড মিলে সবচেয়ে বেশি লাইসিন ও মেথিওনিন থাকলেও অামাদের দেশে ব্লাড মিল কিনতে পাওয়া যায়না তবে অাপনি তৈরি করে নিতে পারেন। তবে উল্লেখ্য যে রেশনে বেশি পরিমাণে ব্লাড মিল ব্যবহার করলে গরু পাগলাটে হয়ে যেতে পারে। তাই প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্টাল অ্যামিনো এসিড ব্যবহার করা উত্তম। ভাল মানের রেশন তৈরি করে অাপনার গরুর দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করুন এবং দুধের ফ্যাট ও প্রোটিন বৃদ্ধি করে দুধের ঘনত্ব বৃদ্ধি করুন।

Source: http://goo.gl/Nphr8r

Leave a Reply