An Education Blog

word direction logo

পেয়ারার ফল ছিদ্রকারী পোকার দমন ব্যবস্থাপনা

পেয়ারার ফল ছিদ্রের হয় এজন্য দায়ী এক প্রকার প্রজাপতি। মধ্য চৈত্র থেকে মধ্য জৈষ্ঠ মাসে ডালিমে এবং মধ্য শ্রাবণ থেকে মধ্য আশ্বিন মাসে পেয়ারায় এ পোকার আক্রমণ সবচেয়ে বেশি হয়। এছাড়াও বরই, লিচু, ডালিম এবং তেঁতুলে এ পোকা আক্রমণ করে।

কিভাবে বুঝবেন ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ হয়েছে ?

payaraa-1

  • পেয়ারা মার্বেল আকার থেকে শুরু করে ফল সংগ্রহ পর্যন্ত যে কোন সময় খোসার ছিদ্র বা ছিদ্রযুক্ত ছোট কালো দাগ দেখা যাবে।
  • অনেক সময় ছিদ্রপথ দিয়ে পোকার মল বের হতে দেখা যায়।

payaraa-2আক্রান্ত ফল

  • আক্রান্ত ফল কাটলে ফলের শাঁসের মধ্যে আঁকাবাঁকা সুড়ঙ্গ দেখা যায় এবং পোকার দু-একটি কীড়াও দেখা যেতে পারে।
  • আক্রান্ত ফলে পচন ধরে এবং পচা গন্ধ বের হয় তাই ফল খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে।
  • ফল ছোট থাকা অবস্থায় এ পোকার আক্রমণ হলে ফল ঝড়ে পড়ে।

পোকা চেনার উপায় কি ?

payaraa-3

  • পূর্ণাঙ্গ স্ত্রী প্রজাপতি দেখতে বাদামি-বেগুনি রংয়ের। সাম্নের পাখায় কমলা রং য়ের ছাপ আছে।
  • কীড়ার রং গাঢ় বাদামি, গায়ে ছোট ছোট লোম ও ছোপছোপ সাদাটে দাগ আছে।

কলা ছিদ্রকারী পোকা দমনের উপায়

  • আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে মাটিতে পুতে বা পানিতে ডুবিয়ে পোকা মেরে ফেলতে হবে।
  • পেয়ারা মার্বেল আকারের হলে কাপড় অথবা দু-তিনটি ছিদ্রযুক্ত পলিথিন ব্যাগ দিয়ে ঐ ফলগুলো ঢিলা করে বেঁধে দিলে গাছের ১০০ ভাগ ফল এ পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে।

payaraa-4সেক্স ফেরোমন

  • সেক্স ফেরোমর ফাঁদ ব্যবহার।
  • পোকার আক্রমণ দেখা দিলে এক লিটার পানিতে ৮০ গ্রাম ঝোলাগুড় ও ১০ গ্রাম ডিপ টেরেক্স-৮০ এস পি মিশিয়ে বিষের ফাঁদ বা বিষটোপ তৈরি করতে হবে। এবার তৈরি করা বিষ মাটি বা প্লাস্টিক পাত্রে রেখে শিকার মাধ্যমে গাছে ঝুলিয়ে দিলে এ পোকা দমন করা সম্ভব হবে।
  • মাত্র একবার বিষ টোপ বা বিষের ফাঁদ ব্যবহার করে এ পোকা পুরোপুরি দমন করা স ম্ভব নয় বলে ৩/৪ দিন পর পর বিষ টোপ বদলে দিতে হবে।
  • পোকার আক্রমণ বেশি হলে প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২০ মিলিলিটার ডায়াজিনন ৬০ ইসি বা রাইসন ৬০ ই সি বা ডেসিস ২.৫ ই সি বা সুমিসাইডিন ২০ ইসি মিশিয়ে ১৫ দিন পরপর ২/৩ বার স্প্রে করতে হবে।

সতর্কতাঃ- স্প্রে করার ১৫ দিনের মধ্যে পেয়ারা খাওয়া নিরাপদ নয়।

Source: http://goo.gl/yJgW9a

Leave a Reply