An Education Blog

word direction logo

মালয়েশিয়ায় পড়তে যাবেন কারা

Port klang, Malaysiaঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এডুকেশনে মাস্টার্স করে মালয়েশিয়ার টেইলর্স বিশ্ববিদ্যালয়ে এডুকেশনে পিএইচডি করছেন হাফিজুর রহমান। উচ্চশিক্ষার জন্য ২০১৪ সালে মার্চে মালয়েশিয়া আসেন তিনি। দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশে এসে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের জন্য কিছু করতে চান। তার ভাবনা, অভিজ্ঞতা, ভিনদেশে পড়াশোনা নিয়ে কথা হয়।
তিনি বলেন, এশিয়ার ইউরোপ খ্যাত মালয়েশিয়ায় বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশ থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা আসছেন। বাংলাদেশ থেকেও প্রতিদিন আসছে দলে দলে। সবাই মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে, তাই আমিও যাচ্ছি ব্যাপারটা এমন হওয়া উচিত নয়। কোনো দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার আগে অবশ্যই জেনে নিতে হবে সেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা কেমন, কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি কত, থাকা-খাওয়া ও যাতায়াত খরচ কেমন, পার্ট-টাইম চাকরির কোনো সুযোগ আছে কি-না, থাকলে তা আসলেই কেমন। আরও ভাবতে হবে আমার নিজের সামর্থ্য কতটুকু, আসলে আমি কোন দেশে পড়তে যাব, কি পড়ব, কোন মানের, কেমন খরচের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব, সেখানে পড়ার প্রয়োজনীয় ইংরেজি ও বিষয়গত জ্ঞান আছে কি-না হিসাব কষে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সরকারি ও উচ্চমানের কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া মালয়েশিয়ার প্রায় অধিকাংশ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েই সহজে ভর্তি হওয়া যায়। আর আইএল টি এসও লাগে না। টিউশন ফিও কম। তাই বিশ্বের অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ থেকেই অসংখ্য শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য মালয়েশিয়ায় আসছেন। তিনি বলেন, আসা সহজ কিন্তু টিকে থেকে সফল হওয়াটা কঠিন। তাই আসলে একটু ভেবে দেখা দরকার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে কোন ধরনের শিক্ষার্থীদের আসা উচিত। হাফিজুর রহমান পরামর্শ দেন, যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েও দেশের সরকারি-বেরসকারি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়নি অথবা পড়তে পাচ্ছে না তারা এখানে আসতে পারেন। মালয়েশিয়ায় ভালো সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলোর মধ্যে ইউএম, আইআইইউএম, ইউপিএম, ইউআইটিএম, ইউইউএম, এমইডিআইইউ, টেইলর্স, সেগি, মাল্টিমিডিয়া, সানওয়ে, আইএনটিআই, নীলাই, আইআইসি, এফটিএমএস উল্লেখযোগ্য। তবে আগে জেনে নিতে হবে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ কেমন। যেমন, অধিকাংশ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও এমইডিআইইউর টিউশন ফি (থাকা-খাওয়া ও যাতায়াত খর বাদে) বছরে ৫,০০০-১০,০০০ রিঙ্গিত যা বাংলাদেশি টাকায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ২০ পর্যন্ত। বিষয় ও ক্রেডিট অনুসারে আবার টেইলর্স, সেগি, মাল্টিমিডিয়া, প্রভৃতির খরচ ৪ থেতে সাড়ে ৫ লাখ টাকা। যদি কোনো শিক্ষার্থী বেশি খরচের বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসেন আর পরবর্তী সেমিস্টারগুলোর টাকা জোগাড় করতে পারবে না বলে মনে করে, তবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন করতে পারবেন। কিন্তু তাকে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত থাকতে হবে ও পর্যাপ্ত সময় (২-৩ মাস) হাতে থাকতে প্রস্তুতি নিতে হবে। তাহলে তাকে দেশে ফিরে যেতে হবে না। যাদের ফলাফল ভালো ও পর্যাপ্ত টাকা আছে তাদের কোনো সমস্যা নেই। তারা যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারে, কিন্ত যাদের ফলাফল তেমন ভালো নয় ও মোটামুটি টাকা আছে তারা ইউইউএম, এমইডিআইইউ প্রভৃতি কম খরচের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসতে পারেন। যাদের ফলাফল ভালো নয় আবার পর্যাপ্ত টাকাও নেই তাদের বিদেশে পড়তে না আসাই উচিত। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, এরাই পড়ার নামে দলে দলে আসে চাকরি করার উদ্দেশ্যে। ফুল টাইম চাকরি করতে গেলে তাদের পক্ষে আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। ফলে তাদের কেউ কেউ কিছুটা ভালো চাকরি পেলেও বাকিরা হয়ে যায় পুরোপুরি শ্রমিক। যাদের উদ্দেশ্য কাজ করে অর্থ উপার্জন করা, পড়াশোনা নয় তাদের উচিত কাজের ভিসা নিয়ে আসা, স্টুডেন্ট ভিসা নয়। বিশ্বের কোনো দেশেই কাজ করে টিউশন ফির পুরো টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। মালয়েশিয়ায়ও অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বেলায় তাই ঘটে।

হাফিজুর রহমানের পিএইচডির বিষয় হলো, “The impact of the use of Skype Group Video Call Technology in Teaching English to the Working People in Bangladesh” স্কাইপ ভিডিও কলিং টেকনোলজি ব্যবহার করে তিনি ইতোমধ্যেই মালয়েশিয়ার চেরাস থেকে পরিচালিত একটি অনলাইন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা, বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও ব্যস্ত চাকরিজীবী প্রফেশনালদের জন্য অনলাইনে ভালো শিক্ষকদের সহায়তায় ইংরেজি ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করা।

খোঁজ

ক্যাটাগরি-১ ভিসা সর্ম্পকে আরো জানতে marpmahamud@gmail.com এবং universebd@outlook.com মেইলে প্রশ্ন করে জেনে নিতে পারেন বিস্তারিত। এছাড়া +60146410023 মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

Sources: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Leave a Reply

Share this

Journals

Email Subscribers

Name
Email *