An Education Blog

word direction logo

রাবি গবেষক দলের সাফল্য

ahmed humayed kabir

রাবি গবেষক দলের সাফল্য

আয়রনের অভাবজনিত কারণে উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ফলে ফলন ভাল হয় না। আয়রনের অভাব থাকা সত্ত্বেও কি কি গুণ বিশিষ্ট উদ্ভিদ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে এবং ভাল ফলন দিতে পারে তার উপর একটি সফল গবেষণাকর্ম সম্পাদন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। এজন্য প্রাথমিকভাবে তারা আট জাতের ঢেঁড়শের উপর গবেষণা করেছেন। ঢেঁড়শের উপর এমন গবেষণা এটিই প্রথম। গবেষণা কর্মটি ভবিষ্যতে ঢেঁড়শ ও অন্যান্য ফসলে আয়রন বৃদ্বিকরণ এবং আয়রন সংশ্লিষ্ট জিন স্থানান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে গবেষকরা মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আহমদ হুমায়ন কবিরের নেতৃত্বে প্ল্যান্ট ও ক্রপ ফিসিওলজি গ্রুপের সদস্য মো. মতিয়ার রহমান, অধ্যাপক এসএ হায়দার ও অধ্যাপক নিশীত কুমার পাল যৌথভাবে দেড় বছর গবেষণা করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেন। সমপ্রতি নেদারল্যান্ডসের এলসেভিয়ার প্রকাশনা কোম্পানির উদ্ভিদবিজ্ঞান ও পরিবেশবিষয়ক জার্নাল ‘এনভারনমেন্টাল অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল বোটানি’তে ‘মেকানিজমস অ্যাসোসিয়েটেড উইথ ডিফারেন্সিয়াল টলারেন্স টু আয়রন ডিফিসিয়েন্সি ইন অকরা; (অ্যাবেলমোস্‌চাস এস্কালেন্টাস মোয়েন্স)’ শিরোনামে তাদের এই গবেষণার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। স্বনামধন্য এ জার্নালটির ৫ বছর ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টর ৩.৭। প্রবন্ধটির অনলাইন লিংক:-http:/ww/w.sciencedirect.com/ science/article/pii/S0098847214002731
গবেষণা প্রতিবেদনটিতে ঢেঁড়শ গাছের আয়রনের অভাব সহনশীলতা বায়োকেমিক্যাল ও মলেকুলার পর্যায়ে ব্যাখ্যা করা হয়। এতে বলা হয়, আয়রনের অভাব সহনশীলতার পিছনে জিপ-১ ও আইআরটি-১ জিন দুটির প্রকাশ বেশি ঘটে। এছাড়া আয়রনের অভাবজনিত অক্সিডাটিভ ক্ষতি প্রতিহত করার জন্য সুপারঅক্সাইড ডিসমিউটেজ এবং গ্লুটাথিয়ন রিডাকটেজ এনজাইমের কার্যকারিতা বেড়ে যায়। ‘হাই পারফরমেন্স লিকুইড ক্রোমেটোগ্রাফি’ বিশ্লেষণে আরও দেখা যায় যে, আয়রনের অভাব সহনশীলতা সাথে গ্লুটাথিয়ন, সিসটিন, সাইট্রেট ও অ্যাসকরবিক এসিড বিশেষভাবে জড়িত। গবেষক দলের প্রধান ড. আহমদ হুমায়ন কবির মানবজমিনকে জানান, বারি-১, অরকা অনামিকা, এবিসি-১, প্রিন্স, সবুজসাথী, পুসা, ওকে-৩১০, ওকে-৩১৪ এই আট জাতের ঢেঁড়শের উপর গবেষণাটি করা হয়। এর মধ্যে আয়রনের অভাব সবচেয়ে বেশি সহ্য করতে পারে বারি-১। তিনি আরও জানান, ধানের জিংকের অভাব এবং আর্সেনিক সহিষ্ণুতার মলেকুলার কৌশলের উপর আরও দুটি গবেষণা প্রকল্প সমাপ্তির পথে। গবেষণা কর্ম দুটি তারা আরও উঁচুমানের জার্নালে প্রকাশ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রসঙ্গত, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও অর্থায়নের অভাব উপেক্ষা করে উদ্ভিদবিজ্ঞান গবেষণায় এই মানের গবেষণা প্রকাশনা বাংলাদেশে সচরাচর দেখা যায় না। এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, তদুপরি বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও উন্নত করেছে। গবেষকরা আরও উঁচুমানের গবেষণার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে স্বাগত জানান।

 

Leave a Reply

Share this

Journals

Email Subscribers

Name
Email *